দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভেদ ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজনের রেখা টানা এবং রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। ধর্ম নিছক বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়। এটিকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসে কোনো সুবিধা নেওয়ার মাধ্যম করা উচিত নয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ধর্মীয় বিভাজন ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে সচেতনতা তৈরি করা গেলে সেই প্রত্যাশা দুরাশায় পরিণত হবে না।
তিনি বলেন, ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে কোনো মানুষ যেন পিছিয়ে না পড়েন এবং কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধা না পান বা সুবিধাবঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি বাবু দীপক দাস রতনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ছোটখাটো সমস্যা থাকবেই। সমস্যা থেকে কেউ মুক্ত হতে পারবে না। তবে সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র, সরকার কিংবা বিবদমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটুকু আন্তরিক, সেটিই বিবেচনার বিষয়।
তিনি বলেন, এসব বিষয় যখনই সামনে এসেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বরাবরের মতো মানুষের পাশে থেকেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বাইরে থাকলেও মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শিখেছি। এই শিক্ষা আমাদের রাজনৈতিক সংগঠন আমাদের দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা কিংবা বিশেষ করে যশোরে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাই হোন না কেন বা যে ধর্মবিশ্বাসীই হোন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, সরকার-রাষ্ট্র তো থাকবেই, সামাজিকভাবেও তাঁদের বয়কট করা হবে—এটুকু নিশ্চিত করা যায়।
যশোরের মানুষের সমঅধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি কিংবা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যতটুকু অধিকার ভোগ করেন, একই অধিকার যশোরের মানুষ ও তাঁদের সন্তানদেরও রয়েছে। নিজেদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই।
সবশেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মবিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শনের চেয়েও বড় পরিচয় হলো—আমরা সবাই বাংলাদেশি।
এমএস/